দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

দুর্নীতি কিংবা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে অডিট কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন তিনি। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে অডিট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউশনের সম্প্রসারিত অডিট ভবনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকে। দেশের সংবিধান, আইন, নীতিমালাসহ নব্য স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অডিট কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে অডিট-সংশ্লিষ্টদের সতর্ক এবং মনোযোগের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ সাশ্রয় এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টকে আরও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এ দেশ ও দেশের মানুষ আরও উন্নত হোক। এই দুর্নীতি বা অনিয়ম, এগুলো আমরা কখনো বরদাশত করবো না। আরও বেশি নজরদারি করবেন, সেটাই আমি চাইছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অডিট বিভাগকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ, আমাদের জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, কর্মপরিধিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সে জন্য আমরা মনে করি, অডিট পরিচালনার বিষয়টায় আরো দক্ষতা অর্জন করা একান্তভাবে প্রয়োজন। সেইসঙ্গে আমি বলব যে ডিজিটাল পদ্ধতি যখনই আমরা গ্রহণ করব, সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার দিকটা কিন্তু লক্ষ রাখতে হবে। সাইবার ক্রাইম একটা টার্ম, যেটা অনেক সময় আমাদের অনেক ক্ষতি করে ফেলে। সেখান থেকেই কিন্তু কীভাবে নিরাপত্তা দিতে হবে, সে বিষয়টাতেও সচেতন থাকতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে জনগণের অর্থ সাশ্রয় এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতি বা এই যে টাকা-পয়সা নিয়ে নানা রকম অনিয়ম, এগুলো আমরা কখনো বরদাশত করব না। কাজেই এ ক্ষেত্রেও আপনারা আরো বেশি নজরদারি করবেন, সেটাই আমি চাইছি। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্থান এখন ৪৪-এ এবং ক্রয়ক্ষমতার সূচকে ৩২তম স্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নই তাঁর মূল লক্ষ্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর গুরুত্ব উল্লেখ করে, দারিদ্র্য নিরসনে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অডিট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকারের ব্যয় সম্পাদনের পরে অডিট কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যয় হওয়ার আগে এবং এমনকি ব্যয় কার্যক্রম চলাকালেও অডিট কার্যক্রম জোরদার হলে আর্থিক অপচয় ও অনিয়ম বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সরকারের প্রকল্পগুলো আরও দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেক্ষেত্রে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। সরকারি অর্থের অপচয়, আত্মসাৎ, জালিয়াতি, চুরি, বিধিবহির্ভূত পরিশোধ, আয়কর ও ভ্যাট আদায় না করা, আইন, বিধি, নির্বাহী আদেশ পালন না করা, সরকারি নিয়মনীতি ও আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ না করা, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না করাসহ নানা অনিয়ম উদঘাটনে অডিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের জনবল সংকট সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, লোকবলের যে সমস্যা আছে ইনশাল্লাহ আমরা তা সমাধান করে দেবো। আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যন্ত চলে গেছে। কাজেই আমাদের অডিটের কাজটা এখন উপজেলা পর্যায়ে আছে, ধীরে ধীরে আমাদের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্তও খোঁজখবর রাখতে হবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকা-ের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অডিট বিভাগকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি হ্রাসের লক্ষ্যে আধুনিক অডিট ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমাদের সরকারের ধারাবাহিক দু’মেয়াদে দেশে দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও এখন অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সরকারের এমপি-মন্ত্রীদেরও তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও উন্নত দেশ গড়তে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাইজেশনের পাশাপাশি এর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যথাযথ নিরাপত্তা না থাকার কারণে রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে জালিয়াতি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় এই অর্থ পাচার হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতি যখনই আমরা গ্রহণ করব, সাথে সাথে তার নিরাপত্তার দিকটা কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে। এই পদ্ধতিগুলো যখনই আমরা গ্রহণ করব, তার সাথে সাথে তার ফায়ারওয়াল থাকতে হবে, নিরাপত্তা থাকতে হবে। সাইবার ক্রাইম একটা ক্রাইম, যা অনেক সময় আমাদের অনেক তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। সেখান থেকেও কিভাবে নিরাপত্তটা দিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সেটা যদি আমরা না করি, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রিজার্ভ চুরির প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমাদের অর্থ পাচার হয়ে গেল। আমরা ডিজিটাল পদ্ধতি সেখানে গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু, যেভাবে, যে পদ্ধতিতে ফায়ারওয়ালটা করা উচিত ছিল; সেটা কিন্তু তখনও করা হয়নি। যার জন্য এটা করতে পেরেছিল। এ ব্যাপারগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য রাখা দরকার। সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১১ মে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দ্য কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (এডিশনাল ফাংশন্স) অ্যাক্ট ১৯৭৪ প্রণয়ন করা হয়। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অব বাংলাদেশ মাসুদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী প্রমুখ।